বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। তবে আটলান্টার সেই উত্তপ্ত লড়াই শুধু ফুটবলের জন্য নয়, আলোচনায় এসেছে এক বিতর্কিত ঘটনাতেও। ম্যাচ চলাকালে ফিফার নতুন নিয়ম ভঙ্গ করেও কোনো শাস্তি পাননি ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার ডেক্লান রাইস, যা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
ম্যাচের প্রথমার্ধে এলিয়ট অ্যান্ডারসন ফাউলের শিকার হওয়ার পর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির দিকে এগিয়ে গিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান রাইস। এ সময় তিনি হাত দিয়ে নিজের মুখ আড়াল করেছিলেন, যা সম্প্রতি চালু হওয়া ফিফার নতুন নিয়ম অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত।
নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিপক্ষের সঙ্গে উত্তপ্ত বা আক্রমণাত্মক বাকবিতণ্ডার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে মুখ ঢেকে কথা বললে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হতে পারে। তবে ম্যাচের রেফারি ও অন্যান্য কর্মকর্তারা ঘটনাটি খেয়াল না করায় কোনো শাস্তির মুখে পড়তে হয়নি আর্সেনালের এই মিডফিল্ডারকে।
বিতর্কের মধ্যেই ম্যাচের ফল নির্ধারিত হয় মাঠের খেলায়। অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে এনজো ফার্নান্দেজ সমতা ফেরান। পরে বদলি হিসেবে নেমে লাউতারো মার্টিনেজ জয়সূচক গোল করে আর্জেন্টিনাকে ২-১ ব্যবধানে ফাইনালে তুলে দেন।
ফিফার নতুন এই নিয়মের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক একটি বহুল আলোচিত ঘটনা। বেনফিকার আর্জেন্টাইন উইঙ্গার জানলুকা প্রেস্তিয়ানি এবং ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের মধ্যকার বিতর্কের পর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। অভিযোগ ছিল, প্রেস্তিয়ানি ভিনিসিয়ুসকে বর্ণবাদী মন্তব্য করেছিলেন। তবে কথোপকথনের সময় মুখ ঢেকে রাখায় ভিডিও ফুটেজ থেকে প্রকৃত বক্তব্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে সমকামিতাবিদ্বেষী আচরণের অভিযোগে প্রেস্তিয়ানিকে ছয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়েছিল। সেই ঘটনার পর তদন্ত প্রক্রিয়া সহজ করতে এবং খেলোয়াড়দের আচরণ আরও স্বচ্ছ রাখতে কঠোর অবস্থান নেয় ফিফা ও ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি)।
তাই সেমিফাইনালে রাইসের এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—ফিফার কঠোর নিয়ম কি মাঠে সমানভাবে প্রয়োগ হচ্ছে, নাকি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কিছু ঘটনা কর্মকর্তাদের নজর এড়িয়ে যাচ্ছে? বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে এমন সিদ্ধান্ত স্বাভাবিকভাবেই বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
খুলনা গেজেট/রুএ

